ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘মাঝে মাঝে ক্লান্ত হই’

বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০২৪ ১০ বার পড়া হয়েছে
ডেইলি আর্থ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। অসংখ্য টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন। বড়পর্দায়ও দর্শক মাতিয়েছেন তিনি। আবার সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও সক্রিয় দেখা গেছে এ তারকাকে। আর অভিনয়গুণে এপার বাংলা ছাপিয়ে এখন ওপার বাংলা পশ্চিমবঙ্গেও সমান খ্যাতি অর্জন করে নিয়েছেন মোশাররফ করিম।

তাঁর অভিনয় ক্ষমতা নিয়ে পক্ষ একটাই– তিনি ভালো অভিনেতা। এই ভালো অভিনেতা অভিনীত ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ নামে একটি ধারাবাহিক নাটক প্রচার শুরু হয়েছে। শফিকুর রহমান শান্তনুর রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন সাজিন আহমেদ বাবু।

অভিনেতা জানালেন, ঘরের শত্রু বিভীষণ ধারাবাহিকটির গল্প ও এর নির্মাতার সততা দুটোই তাঁকে টেনেছে। আর টেনেছে বলেই এতে তাঁর অভিনয় করা। এমন গল্প ও চরিত্রে আগে কখনও করা হয়নি।

এ অভিনেতা ১৯৯৯ সালে এক পর্বের নাটক ‘অতিথি’তে অভিনয়ের মাধ্যমে ছোট পর্দায় কাজ শুরু করেন। ফেরদৌস হাসানের পরিচালনায় এ নাটকের মাধ্যমে অভিষেক হলেও কয়েক বছর পর ২০০৪ সালে নিয়মিত পথচলা শুরু হয় তাঁর। এরপর বিখ্যাত টেলিফিল্ম ‘ক্যারাম’-এ তিশার বিপরীতে অভিনয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এখন পর্যন্ত কত নাটকে অভিনয় করছেন, সে সংখ্যা হয়তো তাঁর নিজেরও জানা নেই। কত বহুমাত্রিক চরিত্রে নিজেকে রূপায়ণ করেছেন, এর হিসাবও হয়তো নেই তাঁর কাছে।

মোশাররফ করিম জানান, ‘ধারাবাহিকটির গল্প ও চরিত্র একেবারে ব্যতিক্রম। সেটা যে ব্যতিক্রম হবে, তা বলাই বাহুল্য। অভিনেতার ভাষ্য, ঘরের শত্রু বিভীষণে মূলত বিভীষণই নায়ক; যে নাটকে বিভীষণকে দেখানো হয় শত্রু হিসেবে। কিন্তু দর্শকরা এই বিভীষণকে নায়ক রূপেই দেখতে পাবেন গল্পে। বেশ আলাদা গল্প, এমন গল্পের চরিত্রে আগে কখনও অভিনয় করা হয়নি।’

ধারাবাহিকটি নিয়ে গল্প শুনতে শুনতেই কথা ছুটে যায় ভিন্ন দিকে। মঞ্চ হয়ে টিভিতে কাজ করার যুগে চলেন যান মোশাররফ করিম। চোখ তাঁর কিছুটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বোঝা যায়, অতীত রোমন্থন করতে করতে নিজেও ফিরে যাচ্ছিলেন অতীতের সেই সময়ে– যে সময়টা স্ট্রাগলের ছিল, ছিল নিজেকে যোগ্য করে তোলার পাঠ। যদিও মোশাররফ করিম সময়টাকে স্ট্রাগল বলতে নারাজ। তাঁর ভাষ্য, সময়টা ছিল আনন্দের। পাঠের। কথায় কথায় জানতে চাওয়া হয়, এই যে এত এত অভিনয় করছেন, ক্লান্ত লাগে না? মোশাররফ করিমের সাফ উত্তর– ‘লাগে। তবুও দিন শেষে আমি এটা উপভোগ করি। অনেকবার ভেবে দেখেছি এটা ছেড়ে দেব এবং অন্য কিছু করব। কিন্তু অন্য কী করব, সেটা ভাবতে গিয়ে আবার ক্লান্ত হয়ে অভিনয়েই ফিরি।’

মোশাররফ করিম অভিনীত ‘বিলডাকিনি’ ও ‘চক্কর’ সিনেমা মুক্তির জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। তবে কবে মুক্তি পাবে তা তিনি জানেন না। অমিতাভ রেজার পরিচালনায় ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’ নামে হইচইয়ের জন্য একটি প্রজেক্টও শুরুর অপেক্ষায়। আরও কত কত নাটকের শুটিং তো বাকিই রয়েছে। তাই অভিনয় নিয়েই তাঁকে রাতদিন একাকার করতে হচ্ছে। এর ফাঁকেও পড়তে ভোলেন না তিনি।

মোশাররফ করিম বললেন, ‘কখনোই প্রচুর পড়াশোনা করিনি। আমি বরাবরই পড়ায় ফাঁকিবাজ। তবে আমার পড়ায় একটু-আধটু আনন্দ হয়। তাই রেগুলার এক পাতা-আধ পাতা পড়ি। এটাকে প্রচুর বলা যাবে না। আর এই পড়াকে বিশেষায়িত করে তোলারও কিছু নেই। একেকজনকে একেক জিনিস আনন্দ দেয়। কেউ গান গেয়ে আনন্দ পায়, কেউ খেলাধুলা করে আনন্দ পায়। আমি হয় তো এক-দুই পাতা পড়ে আনন্দ পাই।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

‘মাঝে মাঝে ক্লান্ত হই’

আপডেট সময় : ১১:২১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০২৪

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। অসংখ্য টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন। বড়পর্দায়ও দর্শক মাতিয়েছেন তিনি। আবার সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও সক্রিয় দেখা গেছে এ তারকাকে। আর অভিনয়গুণে এপার বাংলা ছাপিয়ে এখন ওপার বাংলা পশ্চিমবঙ্গেও সমান খ্যাতি অর্জন করে নিয়েছেন মোশাররফ করিম।

তাঁর অভিনয় ক্ষমতা নিয়ে পক্ষ একটাই– তিনি ভালো অভিনেতা। এই ভালো অভিনেতা অভিনীত ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ নামে একটি ধারাবাহিক নাটক প্রচার শুরু হয়েছে। শফিকুর রহমান শান্তনুর রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন সাজিন আহমেদ বাবু।

অভিনেতা জানালেন, ঘরের শত্রু বিভীষণ ধারাবাহিকটির গল্প ও এর নির্মাতার সততা দুটোই তাঁকে টেনেছে। আর টেনেছে বলেই এতে তাঁর অভিনয় করা। এমন গল্প ও চরিত্রে আগে কখনও করা হয়নি।

এ অভিনেতা ১৯৯৯ সালে এক পর্বের নাটক ‘অতিথি’তে অভিনয়ের মাধ্যমে ছোট পর্দায় কাজ শুরু করেন। ফেরদৌস হাসানের পরিচালনায় এ নাটকের মাধ্যমে অভিষেক হলেও কয়েক বছর পর ২০০৪ সালে নিয়মিত পথচলা শুরু হয় তাঁর। এরপর বিখ্যাত টেলিফিল্ম ‘ক্যারাম’-এ তিশার বিপরীতে অভিনয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এখন পর্যন্ত কত নাটকে অভিনয় করছেন, সে সংখ্যা হয়তো তাঁর নিজেরও জানা নেই। কত বহুমাত্রিক চরিত্রে নিজেকে রূপায়ণ করেছেন, এর হিসাবও হয়তো নেই তাঁর কাছে।

মোশাররফ করিম জানান, ‘ধারাবাহিকটির গল্প ও চরিত্র একেবারে ব্যতিক্রম। সেটা যে ব্যতিক্রম হবে, তা বলাই বাহুল্য। অভিনেতার ভাষ্য, ঘরের শত্রু বিভীষণে মূলত বিভীষণই নায়ক; যে নাটকে বিভীষণকে দেখানো হয় শত্রু হিসেবে। কিন্তু দর্শকরা এই বিভীষণকে নায়ক রূপেই দেখতে পাবেন গল্পে। বেশ আলাদা গল্প, এমন গল্পের চরিত্রে আগে কখনও অভিনয় করা হয়নি।’

ধারাবাহিকটি নিয়ে গল্প শুনতে শুনতেই কথা ছুটে যায় ভিন্ন দিকে। মঞ্চ হয়ে টিভিতে কাজ করার যুগে চলেন যান মোশাররফ করিম। চোখ তাঁর কিছুটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বোঝা যায়, অতীত রোমন্থন করতে করতে নিজেও ফিরে যাচ্ছিলেন অতীতের সেই সময়ে– যে সময়টা স্ট্রাগলের ছিল, ছিল নিজেকে যোগ্য করে তোলার পাঠ। যদিও মোশাররফ করিম সময়টাকে স্ট্রাগল বলতে নারাজ। তাঁর ভাষ্য, সময়টা ছিল আনন্দের। পাঠের। কথায় কথায় জানতে চাওয়া হয়, এই যে এত এত অভিনয় করছেন, ক্লান্ত লাগে না? মোশাররফ করিমের সাফ উত্তর– ‘লাগে। তবুও দিন শেষে আমি এটা উপভোগ করি। অনেকবার ভেবে দেখেছি এটা ছেড়ে দেব এবং অন্য কিছু করব। কিন্তু অন্য কী করব, সেটা ভাবতে গিয়ে আবার ক্লান্ত হয়ে অভিনয়েই ফিরি।’

মোশাররফ করিম অভিনীত ‘বিলডাকিনি’ ও ‘চক্কর’ সিনেমা মুক্তির জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। তবে কবে মুক্তি পাবে তা তিনি জানেন না। অমিতাভ রেজার পরিচালনায় ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’ নামে হইচইয়ের জন্য একটি প্রজেক্টও শুরুর অপেক্ষায়। আরও কত কত নাটকের শুটিং তো বাকিই রয়েছে। তাই অভিনয় নিয়েই তাঁকে রাতদিন একাকার করতে হচ্ছে। এর ফাঁকেও পড়তে ভোলেন না তিনি।

মোশাররফ করিম বললেন, ‘কখনোই প্রচুর পড়াশোনা করিনি। আমি বরাবরই পড়ায় ফাঁকিবাজ। তবে আমার পড়ায় একটু-আধটু আনন্দ হয়। তাই রেগুলার এক পাতা-আধ পাতা পড়ি। এটাকে প্রচুর বলা যাবে না। আর এই পড়াকে বিশেষায়িত করে তোলারও কিছু নেই। একেকজনকে একেক জিনিস আনন্দ দেয়। কেউ গান গেয়ে আনন্দ পায়, কেউ খেলাধুলা করে আনন্দ পায়। আমি হয় তো এক-দুই পাতা পড়ে আনন্দ পাই।’