ঢাকা ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নির্ধারিত সময়ে চালু হচ্ছে না পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪ ১৮ বার পড়া হয়েছে
ডেইলি আর্থ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রায় তিন বছর আগে নির্মিত চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বশেষ যুক্ত হওয়া পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) এ বছরের এপ্রিল মাসে কেবল ক্রেনযুক্ত জাহাজ হ্যান্ডেলিংয়ের মাধ্যমে সীমিত আকারে চালু করার কথা ছিল।

তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং বেশ কিছু আইনি ছাড়পত্র পাওয়ার কাজ এখনো সম্পন্ন না হওয়ায় দীর্ঘ ১৪ বছরেরও বেশি সময় পরে যুক্ত হওয়া টার্মিনালটিতে জাহাজ ভিড়ানোর জন্য অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হলো।

টার্মিনালটি পরিচালনার জন্য গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রথম বিদেশি অপারেটর হিসেবে সৌদি কোম্পানি রেড সি গেইটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই) এর সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় প্রথম জিটুজি ভিত্তিতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে নেওয়া এ প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি কোম্পানিটি ২২ বছর এই টার্মিনাল পরিচালনা করবে।

তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সব এসে না পৌঁছানায় এবং বেশ কিছু আইনি ছাড়পত্র যোগাড় করা শেষ না হওয়ায় সৌদি কোম্পানিটি জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) এর সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, ‘কোম্পানিটির নিয়ে আসা কনটেইনার হ্যান্ডেলিং এর জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু যন্ত্রপাতি ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। তবে আরও কিছু যন্ত্রপাতি এখনো এসে পৌঁছায়নি।’

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবহন বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনাল চালুর জন্য সৌদি কোম্পানিটির আমদানি করা যন্ত্রপাতিগুলো প্রায় ২০টির বেশি কনটেইনারে ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের একজন উচ্চপদস্থ জানান, টার্মিনাল পরিচালনা করতে হলে সৌদি কোম্পানিটির জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে বেশ কিছু ছাড়পত্র নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে রাজস্ব বোর্ড থেকে কাস্টম বন্ড লাইসেন্স এবং ১০ বছরের শুল্কছাড়ের ছাড়পত্র উল্লেখযোগ্য। বন্ড লাইসেন্স পেতে হলে আগে পিসিটি ও এর ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটি এলাকাটিকে কাস্টম বন্ডেড এরিয়া বা ওয়্যারহাউজিং স্টেশন হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হবে।

গত ১৭ এপ্রিল পিসিটি এবং এর ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটি এলাকা হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষিণ কনটেইনার ইয়ার্ডকে কাস্টম বন্ডেড এরিয়া বা ওয়্যার হাউজিং স্টেশন হিসেবে ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

প্রজ্ঞাপন জারি হতে দেরি হওয়ায় ব্রড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে দেরি হয়েছে উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা জানান, প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল বন্ড লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করেছে।

এ ব্যাপারে বিভিন্ন ছাড়পত্র পেতে সৌদি কোম্পানিটিকে সহায়তা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। প্রয়োজনীয় কাজগুলো এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা গেলে সঙ্গে সঙ্গেই টার্মিনাল চালু করা যাবে বলে আশা জানান তিনি।

চুক্তি অনুযায়ী, টার্মিনালটি পরিপূর্ণভাবে চালু করতে প্রয়োজনীয় কনটেইনার হ্যান্ডেলিং যন্ত্রপাতি, বিশেষ করে গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত করতে দু’বছর সময় পাওয়া যাবে। গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হলেই টার্মিনালটিতে ক্রেনবিহীন গিয়ারলেস জাহাজ পরিচালনা করা যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নির্ধারিত সময়ে চালু হচ্ছে না পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল

আপডেট সময় : ১০:৫৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

প্রায় তিন বছর আগে নির্মিত চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বশেষ যুক্ত হওয়া পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) এ বছরের এপ্রিল মাসে কেবল ক্রেনযুক্ত জাহাজ হ্যান্ডেলিংয়ের মাধ্যমে সীমিত আকারে চালু করার কথা ছিল।

তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং বেশ কিছু আইনি ছাড়পত্র পাওয়ার কাজ এখনো সম্পন্ন না হওয়ায় দীর্ঘ ১৪ বছরেরও বেশি সময় পরে যুক্ত হওয়া টার্মিনালটিতে জাহাজ ভিড়ানোর জন্য অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হলো।

টার্মিনালটি পরিচালনার জন্য গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রথম বিদেশি অপারেটর হিসেবে সৌদি কোম্পানি রেড সি গেইটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই) এর সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় প্রথম জিটুজি ভিত্তিতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে নেওয়া এ প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি কোম্পানিটি ২২ বছর এই টার্মিনাল পরিচালনা করবে।

তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সব এসে না পৌঁছানায় এবং বেশ কিছু আইনি ছাড়পত্র যোগাড় করা শেষ না হওয়ায় সৌদি কোম্পানিটি জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) এর সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, ‘কোম্পানিটির নিয়ে আসা কনটেইনার হ্যান্ডেলিং এর জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু যন্ত্রপাতি ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। তবে আরও কিছু যন্ত্রপাতি এখনো এসে পৌঁছায়নি।’

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবহন বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনাল চালুর জন্য সৌদি কোম্পানিটির আমদানি করা যন্ত্রপাতিগুলো প্রায় ২০টির বেশি কনটেইনারে ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের একজন উচ্চপদস্থ জানান, টার্মিনাল পরিচালনা করতে হলে সৌদি কোম্পানিটির জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে বেশ কিছু ছাড়পত্র নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে রাজস্ব বোর্ড থেকে কাস্টম বন্ড লাইসেন্স এবং ১০ বছরের শুল্কছাড়ের ছাড়পত্র উল্লেখযোগ্য। বন্ড লাইসেন্স পেতে হলে আগে পিসিটি ও এর ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটি এলাকাটিকে কাস্টম বন্ডেড এরিয়া বা ওয়্যারহাউজিং স্টেশন হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হবে।

গত ১৭ এপ্রিল পিসিটি এবং এর ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটি এলাকা হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষিণ কনটেইনার ইয়ার্ডকে কাস্টম বন্ডেড এরিয়া বা ওয়্যার হাউজিং স্টেশন হিসেবে ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

প্রজ্ঞাপন জারি হতে দেরি হওয়ায় ব্রড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে দেরি হয়েছে উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা জানান, প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল বন্ড লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করেছে।

এ ব্যাপারে বিভিন্ন ছাড়পত্র পেতে সৌদি কোম্পানিটিকে সহায়তা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। প্রয়োজনীয় কাজগুলো এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা গেলে সঙ্গে সঙ্গেই টার্মিনাল চালু করা যাবে বলে আশা জানান তিনি।

চুক্তি অনুযায়ী, টার্মিনালটি পরিপূর্ণভাবে চালু করতে প্রয়োজনীয় কনটেইনার হ্যান্ডেলিং যন্ত্রপাতি, বিশেষ করে গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত করতে দু’বছর সময় পাওয়া যাবে। গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হলেই টার্মিনালটিতে ক্রেনবিহীন গিয়ারলেস জাহাজ পরিচালনা করা যাবে।